🔺দোতলা বাড়ির ভেন্টিলেটর থেকে ঝুলছে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ! রহস্য মৃত্যুর আড়ালে আসলে কি খুন? খুন করে রক্তাক্ত দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেটরে বলেও অনুমান। সাত সকালে দোতলা বাড়ির নিচতলার ভেন্টিলেটর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কেবল তারে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেহ ঝুলছে সে দৃশ্য নজরে আসতেই আতকে ওঠেন স্থানীয়রা। রাত পর্যন্ত নিহতের নাম পরিচয় মেলেনি। 

 

 

শিলিগুড়ি। ফের খুন শিলিগুড়ি শহরে? দোতলা বাড়ির ভেন্টিলেটর থেকে ঝুলছে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ! রহস্য মৃত্যুর আড়ালে আসলে কি খুন? খুন করে রক্তাক্ত দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেটরে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সোমবার সাত সকালে দোতলা বাড়ির নিচতলার ভেন্টিলেটর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কেবল তারে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেহ ঝুলছে সে দৃশ্য নজরে আসতেই আঁতকে ওঠে এলাকা বাসী। শিউরে ওঠা এই ঘটনার সাক্ষী শিলিগুড়ির ২৩ নম্বর ওয়ার্ড ডাবগ্রামের প্রীতিলতা রোড। এদিন সাত সকালে প্রীতিলতা রোডের একটি আবাসনের পাশে থাকা দোতলা বাড়ির ভেন্টিলেটর থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ নজরে আসে এলাকাবাসীদের। স্থানীয়দের বয়ান সকালে ওই বাড়ির দিকে চোখ যেতেই ভয়ংকর দৃশ্য! একটি যুবকের দেহ দোতলা বাড়ির নিচ তলার ঘরের ভেন্টিলেটর থেকে তার দিয়ে বাইরের দিকে ঝুলছে। তার সারা গা দিয়ে ঝরে পড়া রক্তের দাগ। বাঁ হাতে রয়েছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। এরপরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে বেধড়ক মারধোর, খুন করে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ বলেই মনে করছে স্থানীয়দের একাংশ।

তবে মধ্যরাত্রে সম্ভবত ঘটনাটি ঘটায় ঠিক কি ঘটেছে তা জানা নেই এলাকাবাসীদের। মৃতদেহে ধারালো বস্তুর আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। এলাকার সমাজসেবী মদন ভট্টাচার্য-এর বয়ান- প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এলাকার স্থানীয়দের নজরে আসে তারাই জানান ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা প্রজাপালের দোতলা বাড়ির ভেন্টিলেটর থেকে ঝুলছে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ। নিহত এই এলাকার নয়।তাঁকে এলাকায় আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও জানান স্থানীয়রা। মনে করা হচ্ছে রবিবার গভীর রাতে ব্যক্তিকে খুন করে ওই বাড়ির ভেন্টিলেটর দিয়ে বেরিয়ে আসা টেলিফোনের পুরনো তারের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ। মৃত দেহের  হাতের অংশে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে।
এদিকে ওই আবাসনের পেছনের অংশে একটি গেট রয়েছে। ওই গেটে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ নজরে আসছে, আবসনের পেছনের ওই অংশে রক্ত স্রোত বয়ে যাওয়ার দাগ পরিষ্কার। পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকেরা রক্তের দাগের অংশে চিহ্নিত করে ঘটনাস্থ্ল ঘিরে ফেলে। স্থানীয়দের অনুমান ওই আবসন ও দোতলা বাড়িটি প্রায় গা লাগোয়া।

মাঝে সরু পারপারের রাস্তা রয়েছে। বহিরাগত, নেশা শক্তদের দৌরাত্ব রয়েছে রাতবেরাতে এলাকায়। তারা মনে করছেন রাতে আবসনের পেছনের রাস্তাতেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, এরপরই রক্তাক্ত দেহ পারপার করে সেফ জোনের ব্যবস্থা করতেই আবসনের গেট টপকে পেছনের অংশে রক্তাক্ত দেহ ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। তবে সবটাই অনুমান নির্ভর। কারণ স্বচক্ষে বিষয়টি দেখা তো দূর কোনরকম টু শব্দটিও কর্ন গোচরে আসেনি স্থানীয়দের।  খুনের পর রক্তাক্ত দেহ টেনে এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে পাশের দোতলা বাড়ির একতলার ঘরের ভেন্টিলেটর থেকে বেরিয়ে আসা কেবল তারের সঙ্গে। ঘটনার ওপর থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এ ধরণের কাজ করেছে শান্ত মাথায় খুনের অভিযুক্তরা?নাকি নেহাত আত্মহতা বাকি সমস্তটাই কাকতালীয় সংযোগ? সে প্রশ্ন কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত অজানা পুলিশ কর্তাদেরও। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসিপি শুভেন্দ্র কুমারের সাফ দাবি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মত। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ব্যক্তির পরিচয় জানতে খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনাস্থলের ওই দোতলা বাড়িতে মালিক বর্তমানে বসবাস করেন না নিচের তলায় এক যুবতী একাই ভাড়ায় থাকেন। মনে করা হচ্ছে ওই বাড়িটি যে প্রায় জন শূন্য তা ভালো করেই জানতেন দুষ্কৃতীরা। তবে দেহ অজ্ঞাত পরিচয় থাকায় ঠিক কি কারনে এই পুরো ঘটনা তা নিয়ে তদন্তে ধোঁয়াশা কাটছে না। তবে পুলিশ সূত্রের খবর একটি লোহার রড, দড়ি মিলেছে ঘটনার স্থল থেকে।

সোমবার সকালে আবাসনের বাসিন্দা শুভঙ্কর মাইতির নজরে আসে দেহটি। এরপরই তিনি আবাসনের অন্যান্যদের ডাকাডাকি করেন। তিনি বলেন অফিস যাওয়ার জন্য সকল ছয়টার দিকে বেরোতেই নজরে আসে বীভৎস অবস্থায় একজনের এক ব্যক্তির দেহ ঝুলছে। আবাসিকেরা জানান রাতে অবশ্য কোনোরকম আভাস পাননি তারা। চিৎকার চেঁচামেচি কিছুই কানে আসেনি। আর এই ঘটনার পেছনে অপরাধী এক নয় একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলেও ঘটনাক্রম বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে অনুমানে উঠে আসছে।

একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। তবে ওই আবাসন এবং এলাকায় কোন রকম সিসি ক্যামেরা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মূল রাস্তার মাথায় রয়েছে সিসি ক্যামেরা। ওই এলাকার বিভিন্ন সংযোগকারী রাস্তা এবং মোড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তবে একেবারেই নিছক আত্মহত্যার ঘটনা নয় তার মনে করছেন পুলিশের একাংশও। ব্যক্তির পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় তদন্তে নেমে যোগ সূত্র ধরে একাধিক সম্ভাবনাময় বিষয়গুলিকে একত্রিত করছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। মনে করা হচ্ছে দুষ্কৃতীরা নিহত ব্যক্তির পূর্ব পরিচিত। একসঙ্গে দলে সাময়িক কোনো ঘটনা নিয়ে অশান্তি কিংবা পুরনো শত্রুতা থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পুলিশের একাংশ মনে পড়ছে ওই আবাসন এবং বাড়িতে কোনরকম অপরাধ সংগঠিত করতে হয়তো তারা একজোট হয়েছিল। তার বেয়ে বিল্ডিংয়ে উঠতে গিয়ে কার্নিশ থেকে পড়েও আঘাত লাগতে পারে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় রক্তাক্ত ব্যক্তিকে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গিয়েছে অন্যান্যরা। এদিকে বিগত কয়েকদিনে শিলিগুড়ি শহরে পরপর তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর লক্ষী পাল বলেন এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর আবেদন জানানো হয়েছে এসজেডিএকে। বহিরাগত দৌরাত্ম বন্ধ করতে এর আগেও পুলিশকে জানানো হয়েছে। সমাজসেবী তথা তৃণমূল নেতা মদন ভট্টাচার্য নিজে শহরে পরপর খুনের ঘটনায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

You cannot copy content of this page