নিজ দলীয় সাংসদ প্রার্থী রাজু বিস্টের বিরুদ্ধে ভোট প্রচারে ময়দানে নামলেও দলের হাই কম্যান্ড থেকে ভাজপা বিদ্রোহী বিধায়ককের মিলছে খোলা ছুট। রাজু বিস্ট রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি একজন পারফেক্ট বিজনেস ম্যান। রাজুর অনেক টাকা সবাইকে কিনতে পারে তবে তাকে মনে রাখতে হবে পাহাড়ের সব নেতা বিক্রির সামগ্রী নয়! বিজেপি কি করবে গুলি-তো করতে পারবে না আমায়, বড়জোর দল থেকে বহিষ্কার করবে- আমি ভয় পাইনা ভোটের মুখে খোলা হুঁশিয়ারি বিজেপি বিদ্রোহী বিধায়ক নির্দলের প্রার্থী বিপি বজগই-এর। রাজুর আর্থিক দুর্নীতি থেকে বিজেপি আইনের বিরুদ্ধে পাহাড়ে প্রচারে নামবে বজগই। সিএএ আইন সংশোধন না হলে পাহাড় সহ উত্তরবঙ্গে এই ঘাতক আইন বলবৎ করতে দেবো না-হুঙ্কার ভাজপা বিদ্রোহী নির্দল প্রার্থী বজগই-এর

 

শিলিগুড়ি।নিজ দলীয় সাংসদ প্রার্থী রাজু বিস্টের বিরুদ্ধে ভোট প্রচারে ময়দানে নামলেও দলের হাই কম্যান্ড থেকে ভাজপা বিদ্রোহী বিধায়ককের মিলছে খোলা ছুট। রাজু বিস্ট রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি একজন পারফেক্ট বিজনেস ম্যান। রাজুর অনেক টাকা সবাইকে কিনতে পারে তবে তাকে মনে রাখতে হবে পাহাড়ের সব নেতা বিক্রির সামগ্রী নয়! বিজেপি কি করবে গুলি-তো করতে পারবে না আমায়, বড়জোর দল থেকে বহিষ্কার করবে- আমি ভয় পাইনা ভোটের মুখে খোলা হুঁশিয়ারি বিজেপি বিদ্রোহী বিধায়ক নির্দলের প্রার্থী বিপি বজগই-এর। যা ঘিরে পাহাড় রাজনীতির আঁচে পদ্মের দিল্লি দরবার। নিজ দলীয় প্রার্থী রাজু বিস্ট-কে বহিরাগত তকমা দিয়ে দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন কার্শিয়াঙ ভাজপা বিধায়ক বিপি বজগই। বিজেপি সাংসদ রাজু ইস্তেহারে লেখা প্রতিশ্রুতি থেকে মুখ ফিরিয়ে পাহাড়বাসীকে প্রতারনা করেছে। রাজুকে প্রতারক বলে দেগে তার সাফ মন্তব্য রাজ্য সরকার ও তৃনমূলের অবস্থান ষ্পষ্ট তারা কোনোভাবেই বঙ্গভঙ্গ হতে দেবে না। ফলে তারা এই অবস্থানে অনড়।কিন্তু বিজেপি দ্বিচারীতার রাজনীতি করেছে। তারা গোর্খাল্যান্ড-এর নামে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে গোর্খাদের ভোটযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।গোর্খা জন জাতির স্বীকৃতি বিধানসভায় উত্থাপন করলে সাংসদ তাকে কোনঠাসা করে দেয়। আবার অন্যদিকে বাংলার জমি ধরে রাখতে চাপের মুখে রাজ্য ভাগের ইস্যুকে নাকোচ করছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। পাহাড়ের বুকে প্রতারনা মিথ্যাচারের খলনায়ক হিসেবে সাংসদ প্রার্থী রাজু বিস্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নিজ দলের বিধায়ক নির্দল প্রার্থী বিপি বজগই।সাংসদ হিসেবে পাহাড়ে জল জীবন মিশনের প্ল্যানিং ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির সদস্য পদে থেকে আর্থিক দূর্নীতির খাতায় নাম উঠেছে সাংসদ প্রার্থী রাজুর। সাংসদ তহবিলের অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে খরচ করতে না পারার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সাংসদকে। শুধু মিথ্যাচার আর আর্থিক দূর্নীতি নয় দল ভাঙনের কারিগর হিসেবেও জেলা বৈঠক, কর্মসূচিতে থেকে দলীয় বিধায়ককে বাইরে রাখার হুইপ জারি করেছিলেন সাংসদ বলেও দাবি পদ্মের কার্শিয়াং বিধায়কের। বহিরাগত ও গোর্খাদের সঙ্গে প্রতারনার ইস্যুকে সামনে রেখেই নিজ দলের সাংসদ প্রার্থীকে হারাতে তার বিরুদ্ধে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভাজপা বিধায়ক বিপি বজগই। পাহাড় সমতলে ছোট ছোট বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন তিনি।নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে।দার্জিলিং আসনে বিজেপির প্রার্থী চয়ন ঘিরে রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে দিল্লির দরবারে পাহাড় রাজনীতি জোড় চর্চায়। সেসময়ে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু থেকে কেন্দ্রের একাধিক নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য প্রমাণ তুলে বিস্ফোরক দাবি কার্শিয়াঙ-এর পদ্ম বিধায়কের। সিএএ নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য থেকে রাজনৈতিক স্থায়ী সমাধান, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কেন্দ্রের অমিত শাহ থেকে বিজেপি দলীয় হাই কম্যান্ড জেপি নাড্ডার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিতর্কিত কথোপকথন ফাঁস করলেন পদ্ম বিধায়ক বজগই-

সিএএ প্রসঙ্গে অমিত শাহকে সাফ চিঠি ঘাতক আইনের সংশোধন চাই দাবি বিপি বজগই-এর

অমিত শাহ কে বিগত জানুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গের পাহাড় সহ বিস্তীর্ণ অংশে সিএএ লাগু না করার বিষয় জানিয়ে চিঠিও দেন। বিক্ষুব্ধ ভাজপা বিধায়ক নির্দল প্রার্থী বিপি বজগই জানান জানুয়ারি মাসে চিঠি দিয়ে আমি সাফ জানাই দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার উত্তরবঙ্গের এই বিস্তীর্ণ অংশে সিএএ লাগু করা যাবে না।যে কারণে ইনলাইন পারমিটেকে নজরে রেখে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বেশকিছু অংশকে সিএএ আইনের বাইরে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রেও দার্জিলিং পাহাড় থেকে কোচবিহার,দিনাজপুর জলপাইগুড়ি নিয়ে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে সিএএ আইনের লাগু করা যাবেনা। সে বিষয় জানিয়ে জানুয়ারিতে পাঠানো চিঠির জবাব ফেব্রুয়ারি মাসে অমিত শাহ-র দপ্তর থেকে চিঠি মিলেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়। অথচ তারপর এই আইন লাগুর অর্থ কেন্দ্র সরকার সব জেনে নির্দিষ্ট অভিসন্ধি নিয়েই এই কাজ করেছে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভোটমুখী অস্ত্র সিএএ আইনের বিরোধিতায় সরব হয়ে পাহাড়ে প্রচারে নামবে ভাজপার বিদ্রোহী বিধায়ক বজগই। তার দাবি সিএএ আইন সংশোধন না হলে পাহাড় সহ উত্তরবঙ্গে এই ঘাতক আইন বলবৎ করতে দেবো না। ৮ই এপ্রিলের পর থেকে পাহাড় সমতলে লোকসভার মুখে সিএএ আইনের বিরোধিতায় প্রচারে নামতে চলেছেন ভাজপা পাহাড় বিধায়ক বজগই।

ইউনিটি ফর নর্থের নামে গোপনে মঞ্চ- গোর্খাল্যান্ড নয় ভিন্ন রাজ্য বঙ্গভঙ্গ।বিপি বজগই-কে মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলা নিয়ে ইউনিটি ফর নর্থের নামে গোপন মঞ্চ তৈরি হয়েছে। এই মঞ্চে গোপনে বিচ্ছিন্নতাবাদের তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে। গড়ে উঠেছে কমিটি। এই শিবির বিগত ৪-৫মাস ধরে গোপনে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে চলছে উত্তরবঙ্গে। গোর্খা প্রতিনিধির পাশাপাশি কামতাপুর রাজ্যের তত্ত্বে বিশ্বাসি রাজবংশী প্রতিনিধি রয়েছে। বিহারী, বাঙালি সমুদয়ের প্রতিনিধি রয়েছে বলে দাবি। চলতি নির্বাচনে এই প্রতিনিধিদের গোপন মঞ্চকে কাজে লাগাতে চলেছে বজগই। এর সঙ্গে বিজেপির দলের বড় অংশের সমর্থন রয়েছে। রয়েছে কিছু বিধায়ক সাংসদদের সমর্থনও বলে দাবি ভাজপা বিধায়কের। বাংলাকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তরের ভূখণ্ডের পৃথক পরিচিতির নামে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে গোপন মঞ্চ-এর বিভিন্ন বিজেপি বিধায়কদের বাড়িতে বৈঠক হয়েছে। করেছে। বিপি বজগই বলেন-গোর্খাল্যান্ড নয়, যে কোন প্রকারে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের দাবি আমাদের। বিদ্রোহী কাশিয়াঙ-এর বিজেপি বিধায়কের দাবি কৈলাস বিজয় বর্গীয় থেকে অমিত শাহ আমাকে বুঝিয়েছে গোর্খাল্যান্ড হবে। জনজাতির স্বীকৃতি মিলবে। কিন্তু বিধানসভায় পাহাড়ের ইস্যু উত্থাপিত করা হলে তারা বিষয়টি থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে যান। রাজু বিস্ট কলকাতার বুকে এক রকমের বক্তব্য রেখেছে পাহাড়ে এসে মানুষকে ঝুঁটা ললিপপ দেখিয়েছে। তার বক্তব্য লোকসভা নির্বাচন দিল্লি পৌঁছানোর একটা মাধ্যম। বিজেপি আসলে সংখ্যার রাজনীতি করছে তাদের বুঝিয়ে কোন লাভ নেই। উত্তরবঙ্গ থেকে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা করের অংক যাচ্ছে অথচ উন্নয়ন খাতে তার সিকি ভাগও বরাদ্দ নেই। যদিও এই বিষয় নিয়ে পাহাড়বাসীর সামনে প্রচারে ধোঁয়াশার পর্দা রাখাকেই লোকসভা নির্বাচনের মুখে সেফ মনে করছেন বজগই। সেখানে পাহাড়ে প্রচারে গোর্খা স্বপ্ন ও গোর্খা ইস্যু বলেই দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সমতলে দাঁড়িয়ে বিধায়ক নির্দল প্রার্থীর সাফ মন্তব্য- আবেগের রাজনীতি করে নষ্ট হয়েছে পাহাড়। আবেগ নয় এখন বাস্তবের রাজনীতি করতে হবে। মানুষ তা বুঝেছে।

কেন্দ্র বিজেপি বনাম রাজ্য বিজেপি সঙ্ঘাত তীব্র- পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড থেকে রাজনৈতিক সমাধানের নামে পৃথক রাজ্যে ইস্যু থেকে উত্তরবঙ্গ ভাগের উস্কানির জিগির তুলে কেন্দ্র রাজ্যে ভাজপার সঙ্ঘাত আগেও সামনে এসেছে। প্রার্থী চয়ন নিয়েও সে সংঘাতের ছবি উঠে আসে। আর দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে রাজ্য বিজেপি বনাম কেন্দ্র বিজেপির অবাক করে দেওয়া ভিন্ন নির্বাচনী পলিসি ও রনকৌশল সামনে উঠে আসছে। নির্বাচনে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহি ভূমিকায় সরব হয়েছে কার্শিয়াঙ বিধায়ক বজগই। তবে বিধায়কের বিক্ষুব্ধ ভূমিকায় অবতরণের সূচনা আগে থেকেই। এর আগেও দলের সাংসদের বিরুদ্ধে আর্থিক দূর্নীতির প্রমান তুলেও সামাজিক মাধ্যমে দল বিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক। রাজ্য বিজেপি তার ভূমিকায় চাপের মুখে পড়ে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পদ্মের দিল্লির দরবারও। তবে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বদের সঙ্গে বিধায়কের যোগাযোগ বহাল তবিয়তে রয়েছে। দলের বিরুদ্ধচারনের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দল। মূলত সংকীর্ণ হয়ে ওঠা বাংলায় ভাজপা নতুন করে বিধায়ক হাত ছাড়া করতে চায়নি। বিশেষ করে দার্জিলিং এর মত লোকসভার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ক্ষেত্রে। বর্তমানে রাজু বিস্ট বড় অংকের আর্থিক প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় দলের কাছে রেখে কোনোপ্রকারে টিকিট ভিক্ষা নিলেও নির্বাচনী ময়দানে বিরুদ্ধ ভূমিকায় থাকা নিজ দলের বিধায়ককের কার্যক্রমে কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ টানেনি পদ্ম। ফলে একই আসনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্দল প্রার্থীর লড়াইয়ে বিধায়কের মাথায় অদৃশ্য হলেও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির হাত রয়েছে কিনা সে প্রশ্ন পদ্মের অন্দরের অস্বস্তিকে দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। বহাল তবিয়তে প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামলেও পদ্ম বিধায়ক বজগই-এর সঙ্গে বিধায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা থেকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে। যা পদ্মের রাজু ঘনিষ্ঠ অন্দরে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিধায়ক বজগই সাফ জানান রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে আমার লড়াই। কেন্দ্র বিজেপির সকলেই জানেন নির্দল প্রার্থী মনোনয়নের কথা। তারা আমাকে কিছু বলেনি। দলের কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
ঠোঁটের কোনে হাসি চাপা মুখ নিয়ে তিনি বলেন- বিজেপি একাধিক বিধায়ক সাংসদের সমর্থনও রয়েছে। তারা নির্বাচনের মুখে প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না। তার দাবি রাজু বিস্ট-এর অনেক টাকা, টাকা ছড়িয়ে ভোট কিনতে চাইছে। অথচ জনগণের রায় অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। পাহাড় সমতলে জনগণের সাথে দেবে আমার, বিজেপির বড় অংশ সাথে রয়েছে।

বিষ্ণু প্রসাদ শর্মায় চেনে না পাহাড় বিপি বজগই নামেই পরিচিতি:
পেন নেম বজগই নামেই পাহাড়ে বেশি পরিচিতি। সে নামেই বই, প্রচার, সমাজিক মাধ্যমে একাউন্ট।তিনি জানান বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা বললে পাহাড়ের মানুষ আমায় চিনবে না। বজগই-নামেই সবাই চেনে। যদিও বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা আমার অফিসিয়াল নাম। পেন নেম বিপি বজগই। সাহিত্যের জগতে বই প্রকাশ থেকে সামাজিক মাধ্যমে একাউন্ট সবটাই এই নামে। বিপি বজগই জনপ্রিয় কিন্তু বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা নয়। তিনি বলেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা নামেই মনোনয়ন দাখিল করেছি ওরফে বিপি বাজগই উল্লেখ্য করেছি।

হরলিক্স বর্নভিটা- নই আমি, নিজের শরীরের শক্তি কম হলে বাজার থেকে কিনে আনবেন-বিমল গুরুং ও সিপিআরএমকে নিশানা:
পাহাড়ে রাজনৈতিক মহলের জোড় চর্চা বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট টাকা ছড়িয়ে দিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক নেতাদের নিজের হাতে করে নিয়েছেন।বিজনেসম্যান রাজনীতিবিদের টাকার কাছে বিকিয়ে গিয়েছে এক সময়ের গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে দার্জিলিঙ-এ আগুন জ্বালিয়ে অগ্নিগর্ভ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা আঞ্চলিক দলের নেতৃত্বরা। পাহাড় জনগণের মনে প্রশ্ন ঘুরছে বজগই কি আদেও নির্বাচনে সাংসদ প্রার্থীর টাকার প্রলোভন সরিয়ে নির্দল প্রার্থী পদে বহাল থাকবে? এ প্রশ্নের উত্তরে রাজু বিস্টকে একহাত করেন বিধায়ক প্রার্থী বজগই। তিনি বলেন-রাজু বিস্টের অনেক টাকা। সবাইকে কিনে কিনতে পারে। হুঁশিয়ার কন্ঠে তিনি বলেন পাহাড়ের সব নেতা বিক্রির সামগ্রী নয় তা সাংসদ প্রার্থীকে মনে রাখতে হবে। বিমল গুরুঙ এবং সিপি আরএম এর নাম না করে ইঙ্গিতবাহি মন্তব্য করে তিনি বলেন- সবাই হরলিক্স বর্নভিটা নয়। কারোর নিজের শরীরের শক্তি কমে গেলে টাকা দিয়ে বাজারি সামগ্রী কিনে নেবে। বজগই রাজনীতির বাজারে বিক্রয় সামগ্রী নয়। টাকা দিয়ে কেনা যাবে না। তিনি দাবি করেন আমি বিমলের কাছে যাওয়ার পরেই রাজু তার পদতলে গিয়ে পড়েছে। বিগত ২০১৯ এর লোকসভায় রাজুর ভোটের অংক এসেছিল আমার হাতে ভর করেই। তাকে জেতাতে জেল খেটেছি। তিনি বলেন অথচ প্রলোভনের টোপ এড়িয়ে বহিরাগত প্রার্থী রাজুকে সরিয়ে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা একজন গোর্খা ভূমিপুত্রকে প্রার্থী চয়ন করতে পারেনি। ভূমিপুত্র হলে ফল কিছুটা ভালো হতো।
ইস্যু গোর্খাল্যান্ড নয় ভিন্ন রাজ্য:
অমিত শাহ আমাকে বুঝিয়েছিল রাজনৈতিক স্থায়ী সমাধান মানেই পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড। পরে কলকাতায় ভিন্ন সুর শোনা যায় রাজ্য ভাজপা নেতৃত্বদের গলায়। সেই সুরে একেবারে ৩৬০ডিগ্রি বিপরীত মেরুতে ঝাঁপিয়ে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের সম্মুখে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্ট সাংসদ থাকাকালীন বক্তব্য দিয়েছেন পৃথক রাজ্যের গোর্খাল্যান্ড করার কোনো বিষয় নেই। সংকল্প পত্রে গোর্খাল্যান্ড-এর উল্লেখ্য নেই বলে জানিয়ে দেন। আর পাহাড়ে এসে মিথ্যাচার করে বলছে গোর্খাল্যান্ড, রাজনৈতিক স্থায়ী সমাধান হবে। বজগই বলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় আমাকে দলে যোগদান করতে বলে ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়তে। বিমল যখন পাহাড় থেকে ফেরার সে সময় গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার হাল ধরে ছিলেন বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা ওরফে বজগই। গোর্খা ল্যান্ড ইস্যুর লড়াইতে সে সময় কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানান কেন্দ্র এই দাবি পূরণের কাজ করবে। কিন্তু পরবর্তীতে বহিরাগত প্রার্থী দিয়ে গোর্খাদের সঙ্গে প্রতারণার জাল বুনে চলে তারা। ভাজপা বিদ্রোহী বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি ২০২৪ এর নির্বাচনের আগে জনজাতির স্বীকৃতি মিলবে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় সাংসদ। অথচ বিধানসভায় জনজাতির স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করলে তাতে সমর্থন মেলেনি বিজেপির। পাল্টা দলে তাঁকে কোন ঠাসা করে দেওয়া হয় বলে ক্ষোভ বিক্ষুদ্ধ ভাজপা বিধায়কের।ভাজপা বিধায়কের মন্তব্য তৃণমূল ও রাজ্য সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার রেখেছে তারা বঙ্গভঙ্গ চায়না। জনজাতির স্বীকৃতির নোটিফিকেশন করেছে রাজ্য সরকার।ভাজপা বিধায়কের স্বীকারোক্তি রাজ্য সরকার পাহাড়ের উন্নয়নেও টাকা দিয়েছে।

You cannot copy content of this page