শিলিগুড়ি

হাই পাওয়ার বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মুখেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি

ভাজপার হাই পাওয়ার বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মুখেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার। দলীয় বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীকে সরাসরি দলে অনুপ্ৰবেশকারী তকমা দিয়ে চূড়ান্ত অবমাননা ভাজপা সাংসদ তথা বিজেপির ন্যাশনাল স্পোক পার্সন রাজু বিস্টের।বিধানসভা ভিত্তিক ১১ জনের পোলিং স্টেশন ধরে জনগননার আদলে নাগরিকদের গোপন তথ্য যাবে দিল্লির দরবারে সেমত ভোট থেকে বুথ দখলের ব্লু প্রিন্ট পাঠানো হবে

 

শিলিগুড়ি। ভাজপার হাই পাওয়ার বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মুখেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার। দলীয় বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীকে সরাসরি দলে অনুপ্ৰবেশকারী তকমা দিয়ে চূড়ান্ত অবমাননা ভাজপা সাংসদ তথা বিজেপির ন্যাশনাল স্পোক পার্সন রাজু বিস্টের।বিধানসভা ভিত্তিক ১১ জনের পোলিং স্টেশন ধরে জনগননার আদলে নাগরিকদের গোপন তথ্য যাবে দিল্লির দরবারে সেমত ভোট থেকে বুথ দখলের ব্লু প্রিন্ট পাঠানো হবে।উত্তরবঙ্গ জুড়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার হয়ে উঠেছে উত্তরের পদ্ম শিবির।বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয়েছে দলেরই একাংশ। দলের টিকিট না মেলাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ঘিরে প্রকাশ্যে উঠে এসেছে দলের অন্তদ্বন্দ। পাহাড় থেকে সমতল উত্তরের জেলায় জেলায় নির্বাচনের মুখে বিজেপির বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠী দলের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ এতটাই তুমুলে উঠেছে যে দিল্লির দলের হাই কম্যান্ডকে তড়িঘড়ি শিলিগুড়িতে বৈঠক করতে হয় ফাঁটল রেখা সারাইয়ে। এদিন উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার বিধানসভার প্রার্থী এবং জেলার দলীয় সভাপতিদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোপন বৈঠক চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের নির্বাচনী প্রভারিও ভূপেন্দ্র যাদব, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা মঙ্গল পান্ডের উপস্থিতিতে চলে আলোচনা। তবে এই বৈঠকে দল ও আরএসএসের নেতৃত্বদের সামনেই দলের অন্তদ্বন্দ প্রকাশ্যে উঠে আসে। গোপন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একাকাধী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ক্ষোভ বিক্ষোভ বেড়িয়ে আসে শীর্ষ নেতৃত্বদের সম্মুখেই। উত্তরের দলের সাংগঠনিক ফাটলের রেখা সারাইয়ে নেমে পাল্টা টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন দলীয় কর্মীরা।

প্রশ্নবানে বিদ্ধ হতে হয় দলীয় নেতৃত্বদের। আর দলীয় নেতৃত্বদের সামনে প্রতিটি জেলায় গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার সংগঠনের দূর্বল ছবি সামনে বেড়িয়ে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েন উত্তরের সাংসদ বিধায়কেরা। জানা গিয়েছে,পাহাড় তিন কেন্দ্রের প্রার্থী বদলের দাবিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নেতৃত্বরা। সক্রীয় হয়ে উঠেছে দল বিরোধী বিক্ষুব্ধ শিবির। আবার মালাবাজার, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী ও চোপড়াতেও এক পরিস্থিতি। তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে দলেরই বড় অংশের। চোপড়া ও ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীবদলের জন্য সওয়াল তোলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেদের কাছে দলের বিক্ষুব্ধ অংশ।চোপড়া দুই গোষ্ঠি রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ্যে তুলে আনে। নেতৃত্বদের পরোয়া না করে শুরু হয় দল বিরোধী স্লোগান। ডামগ্রাম ফুলবাড়িতে প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে সাংসদ রাজু বিস্ট আবার এক ধাপ এগিয়ে দলীয় কর্মীদের দিকেই অনুপ্রবেশকারী তকমা দেগে ওঠেন। তার কথায় দলের ভেতরেও অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গিয়েছে। দলের ভেতরে তৃনমূল থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকেছে। অনুপ্রবেশকারী টিকিট না পেয়ে এ ধরনের বিক্ষুব্ধ আচরণ করছে। অন্যদিকে বিজেপি দলীয় নেতৃত্বরা পাল্টা বলছে ৩০দিনের মেয়াদ বেঁধে দিয়েছে।ভোটমুখী ৩০দিনের গোপন সমীক্ষায় কাজে নামছে বাংলায় বিধানসভা ভিত্তিক বিজেপি। এদিন দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয় ১১জনের টিম তৈরি করে প্রতি বিধানসভায় বুথ ও পোলিং সেন্টার ভিত্তিক গোপন সমীক্ষা চলবে।

সেখানে একটি করে পোলিং সেন্টার ভিত্তিক সমীক্ষার কিট রয়েছে। পোলিং সেন্টার ভিত্তিক বিজেপির সক্রিয় কর্মীর সংখ্যা, কতজন দলে নিষ্ক্রিয় একইভাবে গোপন সমীক্ষায় তৃনমূলের সক্রিয় কর্মী ও খানিক কম সক্রিয় কর্মীদের তথ্য সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রীতিমত পোলিং সেন্টার ধরে জনগণনার আদলে ধর্ম ভাষা বর্ণ ভিত্তিতে গোপন সমীক্ষা চালাবে বিজেপি। মোদির সফরের মধ্যেই সেই সমীক্ষা সম্পন্ন করে সে কিট পাঠানো হবে দিল্লিতে। সেখানে বিধানসভার সমীক্ষা রিপোর্ট ধরে ভোট বুথ দখলের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করবে শাহী দরবার। সেমত ভোটের প্রাগ লগ্নে সেই ব্লু প্রিন্ট মোতাবেক নির্দেশ মোতাবেক নামতে হবে ময়দানে দলের নেতা কর্মীদের।