🔺🔺প্রকাশ্যে আইন ভেঙে তৃনমূল পঞ্চায়েত প্রধানের প্রোমোটিং। স্বামী জেলা নেতৃত্বের অতি ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই ক্ষমতাবলে জমি দখলদারি থেকে
সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করেও অকুতভয় আঠারোখাইয়ের পঞ্চায়েত প্রধান! আঠারোখাই-এর মহিলা প্রধান যুথিকা রায়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট যাচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তরে

শিলিগুড়ি। প্রকাশ্যে তৃনমূল পঞ্চায়েত প্রধানের প্রোমোটিং। স্বামী জেলা নেতৃত্বের অতি ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই ক্ষমতাবলে জমি দখলদারি থেকে
সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করেও অকুতভয় আঠারোখাইয়ের পঞ্চায়েত প্রধান!সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে পঞ্চায়েত প্রধান যুথিকা রায় (খাসনবিশ)-এর বিরুদ্ধে। পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সরব বিজেপি। পূর্বেও মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে বেআইনী ভাবে বিক্রি করা এবং যুব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে টেন্ডার দুর্নীতি থেকে ঠিকাদারদের কাছে কাটমানি চাওয়ার মতো ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ রয়েছে। তবে এবারে খবরে আসতেই বিডিও-র দপ্তর থেকে পঞ্চায়েত মহিলা প্রধান যুথিকা রায় খাসনবিশের বিরুদ্ধে রিপোর্ট যাচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তরে।শিলিগুড়ির একেবারে উপকন্ঠে মাটিগাঁড়া ব্লক আর সেখানেই তৃণমূলের দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে মিলে প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা প্রোমোটিং করে চলেছেন। না বকলমে নয় একেবারে খোলামেলা পঞ্চায়েত প্রধানের নামে সরকারি খাতায় ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। ওই এলাকার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা মাটিগাড়া ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অভিজিৎ পাল -এর সঙ্গে যৌথভাবে সূর্যসেন পল্লীতে প্রোমোটিং ব্যবসা চলছে। আর এতেই শাসক শিবিরের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন ১৯৭৫ অনুযায়ী জেলা পরিষদ বা মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি, সহকারি-সভাধিপতি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পঞ্চায়েত প্রধানেরা কোনরকম লাভজনক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। যার পঞ্চায়েত আইন “ফুল টাইম অফিস অফ প্রফিটে” উল্লেখ্য রয়েছে।


আর সেখানে সূর্যসেন পল্লী বাণিজ্যিক নির্মীয়মানের সাইনবোর্ডে অর্করাজ ডেভলপার সংস্থার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের দুটি নম্বর চকচক করছে। এর মধ্যে প্রথম নম্বরটি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অভিজিৎ পালের এবং দ্বিতীয় নম্বরটি, আঠারোখাই পঞ্চায়েত প্রধান যুথিকা রায় (খাসনবিশ)এর। এবার সাধারণ জনগণের মাঝে প্রশ্ন উঠতেই পারে কিভাবে একেবারে প্রকাশ্যে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে শাসক শিবিরের পঞ্চায়েত প্রধান এ কাজ করে চলেছে? সরকারি ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশনের ফর্ম ১১-তে পঞ্চায়েত প্রধানের নাম যখন জ্বলজ্বল করছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহল এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে কি শুধুমাত্র শাসক শিবিরের চাপে চুপ রয়েছে প্রশাসনিক অধিকর্তারা! এ প্রশ্নের জবাবে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও কারণটা ভালো ভাবেই জানেন তৃনমূলের নেতাকর্মী, রাজনৈতিক মহল থেকে মাটিগাঁড়ার চোখ কান খোলা আমজনতা। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে দলের নেতা কর্মীরাই বাঁকা মন্তব্য ছুড়ে বলছেন এতে আড়ালের তো কিছুই নেই!

জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের খাস ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত প্রধান যুথিক রায়ের স্বামী রথীন খাসনবিশ। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী রথীন বাবু সরকারি স্কুলে চাকুরীরত হলেও দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকেন। কারন স্কুলের সময়তে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের চেয়ে ততধিক গুরুত্বপূর্ন কাজে জেলার তৃনমূলের শীর্ষ পদে থাকা নেতৃত্বের বাড়ির কার্যালয়ে নিয়ম করে হাজিরা দিতে হয়। আসলে জেলার দলীয় শীর্ষ পদে থাকা নেতৃত্বের বাড়িতে দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রতিদিন নিয়ম করে তার কাজকর্ম সামলান রথিন। আর এতেই মুনাফা হিসেবে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন থেকে তৃনমূলের দলীয় রাজ্য নেতৃত্বের হুইপকে তোয়াক্কা না করার খোলা ছাড়পত্র মিলছে। পূর্বেও আঠারোখাই পঞ্চায়েতে প্রধান যুথিকা রায় খাসনবিশের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেঁটে বেআইনি ভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে শাসক শিবিরের যুব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এলাকার বিরোধী শিবির বিজেপি ও বামেদের অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধান সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ঠিকাদারদের কাছে কাটমানির দাবি করে। অভিযোগ সরকারি প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারদের ৬% কাটমানি দেওয়ার কথা বলেন পঞ্চায়েতে প্রধান।

বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেদের অভিযোগ শুধু বেআইনি কাজের ছাড়পত্র নয় লাভের একটা অংশ সরাসরি পৌঁছচ্ছে তৃনমূলের জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। তাই প্রশাসনিক অধিকর্তারাও বাধ্য হচ্ছেন সব জেনেবুঝে নিশ্চুপ থাকতে।আবার শাসক শিবিরের দলীয় ব্লক সভাপতি অভিজিৎ পালের আরও একটি প্রোমোটিং প্রজেক্ট একসঙ্গে চলছে। রামকৃষ্ণ নামে ওই নির্মাণ সংস্থার যৌথ মালিকানায় রয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যা স্বপ্না নিয়োগী ঘোষ। জেলার দলীয় প্রায় সর্বোচ্চ পদে থাকা নেতৃত্বের কাছে শুধু সূর্যসেনপল্লীর প্রজেক্ট নয় আরো একাধিক বাণিজ্যিক নির্মীয়মান,তৃনমূলের ব্লক নেতা অভিজিতের প্রোমোটিং সংস্থার মোটা টাকা পৌছায় বলেই বিরোধী বাম ও বিজেপির শিবিরের অভিযোগ। নেতাকর্মীদের প্রোমোটিং কারবারের মোটা অংকের টাকা পৌঁছে যায় দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে। যার বদলেই বেআইনি কাজে মাথায় হাত মেলে নেতৃত্বের। এখানেই শেষ নয়,

তৃনমূলের প্রভাবশালী তত্ত্বে ভর করেই মাটিগাড়া বিডিও অফিসের দপ্তরীয় পার্কিংয়ের স্থানে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের সরকারি গাড়ির পাশে বহাল তবিয়তে দলীয় নেতা অভিজিৎ পালের স্ত্রী অনিন্দিতা গুহ পালের নিজ ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়।

ব্লকে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে ওঠা এই একাধিক অভিযোগের বিষয়ে মাটিগাড়ার বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন- নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে প্রধানের যোগ নিয়ে একটা আইনি জটিলতা রয়েছে। ওই মহিলা প্রধানের কাছে কৈফয়ৎ তলব করা হয়েছে। আমরা ডিপিআরডিও-কে চিঠি করেছি। পরবর্তীতে পিআরডি (ওয়েস্টবেঙ্গল ডিপার্টমেন্ট অফ পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভেলাপমেন্ট) দপ্তর থেকে যে নির্দেশিকা আসবে সেমত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান ওই সংস্থার সঙ্গে প্রধানের কি যোগ রয়েছে পরিষ্কার করে তা লিখিত বয়ান আকারে চাওয়া হয়েছে প্রধান যুথিকা রায়ের খাসনবিশের কাছে।পঞ্চায়েত আইনে উল্লিখিত ফুল টাইম অফিস অফ প্রফিট লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে। অপরদিকে বিডিও অফিস চত্ত্বরে সরকারী জায়গায় দলীয় নেতার স্ত্রীর গাড়ি পার্কিং করে রাখার বিষয়টিতে বিডিও জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (অভিজিৎ পাল) এর সঙ্গে কথা বলবো। এটা করা যাবে না।

 

 

 

 

You cannot copy content of this page