পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে বেআইনি বিল্ডিংয়ের তদন্তে পুরনিগমে ১৩ সদস্যের টিম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। প্রতি ১৫ দিন অন্তর বিল্ডিং বিভাগের সমীক্ষক দলকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে পুরো নগরোন্নয়ন দপ্তরে
শিলিগুড়ি পুরনিগম জুড়ে বেআইনি নির্মাণ, বিল্ডিং দুর্নীতি এবং প্রভাবশালীদের মদতে গজিয়ে ওঠা অবৈধ বহুতল নিয়ে এবার কড়া অবস্থানে বিজেপি সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় বেআইনি বিল্ডিং তদন্তে গঠন করা হয়েছে ১৩ সদস্যের বিশেষ সমীক্ষক টিম। স্পষ্ট বার্তা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতি ১৫ দিন অন্তর বিল্ডিং বিভাগের সমীক্ষক দলকে সরাসরি রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে।
শিলিগুড়ি। শহরজুড়ে বছরের পর বছর ধরে চলা বেআইনি নির্মাণ, বিল্ডিং আইন লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার কার্যত অভিযান শুরু করল বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিলিগুড়ি পুরনিগমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশের পরই তড়িঘড়ি সক্রিয় হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। খুব শীঘ্রই বেআইনি নির্মাণ ও দুর্নীতির ইস্যুতে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকার কথাও জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
অভিযোগ, শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় গত কয়েক বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক বেআইনি বহুতল ও বাণিজ্যিক নির্মাণ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সেবক রোড এলাকায় একাধিক শপিং মলের বহুতল নির্মাণ ঘিরে পুরনিগমের বিল্ডিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একইভাবে হিলকার্ট রোডের গয়া রাম বিল্ডিংয়ের বেআইনি অংশ নিয়েও একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে পুরনিগমের মাসিক সভা। ইতিমধ্যেই পুরবোর্ড শহরের অন্তত ৮টি নির্মাণকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে দায়ের হওয়া ৬টি মামলা বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন।
অভিযোগ আরও গুরুতর। বাম বোর্ডের সময়ের তুলনায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের আমলেই বেআইনি নির্মাণের বিস্তার ভয়াবহ আকার নেয়। যদিও প্রায় ২০০টি বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার চালানো হয়েছিল, অভিযোগ সেই অভিযানের বড় অংশই ছিল সাধারণ মানুষের আবাসিক বাড়ির বিরুদ্ধে। অথচ কোটি টাকার বাণিজ্যিক বহুতলগুলির বিরুদ্ধে কার্যত নীরব ছিল পুরনিগম। পুরনিগম সূত্রেই জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বহুতলের হার ১০ শতাংশেরও কম।
এবার সেই সমস্ত ফাইল, বিল্ডিং প্ল্যান এবং অনুমোদনের নেপথ্যের যোগসাজশ খতিয়ে দেখতে নামছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। শুধু বেআইনি নির্মাণ নয়, সরকারি আবাসন প্রকল্পে দরিদ্র ও ভূমিহীনদের তালিকাতেও প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠদের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পুর দপ্তরের বিল্ডিং বিভাগ এবং বোরো অফিসের দায়িত্বে থাকা ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ সমীক্ষা কমিটি।
জানা গিয়েছে, প্রত্যেক ইঞ্জিনিয়ারকে ২ থেকে ৩টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখবেন। প্ল্যানবিহীন নির্মাণ, অনুমোদন বহির্ভূত বহুতল, বেআইনি সম্প্রসারণ সবকিছুর সরেজমিন তদন্ত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যানগুলিও পুনরায় যাচাই করা হবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়বে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে।
শহরজুড়ে পুরনিগমের বিল্ডিং দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি সরকারের এই কড়া অবস্থান নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব সংবাদমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যা নির্দেশ আছে, করা হবে।”


