শিলিগুড়ি। আমি কথা দিয়ে যেতে পারি সরকার তৈরি হওয়ার পর যখন পুরসভা নির্বাচন হবে শিলিগুড়ি পুরনিগমে এমন প্রতিনিধি আপনাদের উপহার দেব যারা সর্বক্ষনের কর্মী হয়ে আপনাদের পাশে থাকবে।এটাই শিলিগুড়ি বাসীর প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি ও প্রতিজ্ঞা বিধানসভা নির্বাচনী প্রচার মঞ্চ থেকে শিলিগুড়ি বাসির উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা তৃণমূল সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শিলিগুড়ি শহরের জ্বলন্ত যানজট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে উন্নয়নের নিরিখে রিপোর্ট কার্ড হাতে বিজেপি ও শঙ্কর ঘোষের সরকারকে দশ শূন্য গোলে মাঠ ছাড়া করার চ্যালেঞ্জ শিলিগুড়ির মাটি থেকে দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের অভিষেকের। শিলিগুড়ির তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এই সভায় বিকেল থেকেই মানুষের ঢল নামে, যা সন্ধ্যা গড়াতেই জনজোয়ারে পরিণত হয়। মঞ্চ থেকে শিলিগুড়িবাসীর উদ্দেশ্যে একাধিক প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা দেন তিনি।
সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি কথা দিয়ে যেতে পারি, সরকার তৈরি হওয়ার পর যখন পুরসভা নির্বাচন হবে, শিলিগুড়ি পুরনিগমে এমন প্রতিনিধি আপনাদের উপহার দেব, যারা সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে আপনাদের পাশে থাকবে। তিনি এই প্রতিশ্রুতিকে শিলিগুড়িবাসীর প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি ও প্রতিজ্ঞা বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শহরের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত যানজট সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, শিলিগুড়িতে পুলিশ কমিশনারেট গঠন করা হয়েছে, পাশাপাশি ৫১১ কোটি টাকার মেগা জলপ্রকল্প নেওয়া হয়েছে। গাজলডোবা থেকে ফুলবাড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। বর্তমানে যেখানে ৫৫ এমএলডি জল সরবরাহ করা হয়, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে তা বেড়ে ১৩৫ এমএলডি হবে। তিনি আরও বলেন- এই প্রকল্প কার্যকর হলে শহরের জলের সমস্যা অনেকটাই মিটবে।
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, দার্জিলিংয়ের সাংসদ অধিকাংশ সময় দিল্লিতে এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক কলকাতায় থাকেন। তাঁর কথায়- শিলিগুড়িতে এমন প্রতিনিধি দরকার, শহরকে হাতের তালুর মতো চিনবে। সর্বক্ষণ শিলিগুড়ির মানুষের পাশে থাকবে।সেই কারণেই গৌতম দেবকে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দল শিলিগুড়িতে প্রার্থী করেছে। গৌতম দেবকে জেতান শিলিগুড়ির রাশ আমার হাতে থাকবে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দেন অভিষেক।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন- আমি শংকর ঘোষ কে চ্যালেঞ্জ করছি সময়-জায়গা আপনি ঠিক করুন, রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। ১২ বছর নরেন্দ্র মোদির সরকার আর ১৫ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তুলনা হোক। যদি দশ-শূন্য গোলে হারিয়ে মাঠ থেকে বের করতে না পারি আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। তিনি বক্তব্য সংযোজন করে শঙ্কর ঘোষকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন ত্রাণ বন্টন করতে গিয়ে জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার মানুষের কাছে তাড়া খেয়ে হাতে চোট লেগেছিল। তার বাম হাতে চোট লাগে আর শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে এসে ডান হাতে ব্যান্ডেজ করার ছবি প্রকাশ্যে আনে। আমার কথা রেকর্ড করে রাখুন, আমি যদি মিথ্যে বলি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার্কিট বেঞ্চ করে দিয়েছেন হাইকোর্টে গিয়ে মামলা করুন সত্যি প্রমাণ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব গর্জন বাংলার যুব সমাজের অধিনায়কের।১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ রাখা নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি প্রমাণ করতে পারেন যে কেন্দ্র বাংলার প্রাপ্য টাকা দিয়েছে, আমি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াব। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দিল্লি থেকে কোনও পূর্ণমন্ত্রী শিলিগুড়ির জন্য অতিরিক্ত দশ পয়সা বরাদ্দ করেনি।ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন,আমরা ধর্মকে ঢাল করে রাজনীতি করি না, কর্মকে হাতিয়ার করি। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করে মহাকাল মন্দির করছে মুখ্যমন্ত্রী। সেই কাজে বিরোধিতা করছে বিজেপি। তিনি মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুও তুলে ধরে বলেন- বিজেপি জয় শ্রীরাম বলে, আর রান্নার গ্যাস হাজার টাকা, পেট্রোল ৯০ টাকা করে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন- আমি স্বামী বিবেকানন্দের গেরুয়া বস্ত্রে বিশ্বাস করি, যোগী আদিত্যনাথ এর গেরুয়া বস্ত্রে বিশ্বাস করি না। প্রধানমন্ত্রীর শিলিগুড়িতে সম্ভাব্য নির্বাচনী রোড শো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় আসুন, আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন ও ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান প্রকাশ করুন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন,যদি এই হিসেবে শ্বেত পত্র প্রকাশ করতে পারেন, আমি আর কোনওদিন তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসব না।সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশ্যে অভিষেকের বার্তা ছিল স্পষ্ট-লাইনে দাঁড়িয়ে এবার জবাব দিন। ২০২৬-এ গৌতম দেবকে জেতাতে হবে, তবেই আপনাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। শিলিগুড়িতে জনসভা মঞ্চ থেকে আগাগোড়া তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ-এই তিন ফ্যাক্টর পয়েন্টে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। অন্যদিকে অশোক ভট্টাচার্যের তিন মাস আগে বলা স্বীকারোক্তিকে তুলে তিনি বলেন তিন মাস আগে অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন বামের ভোট রামে গিয়েছে যা ঠিক হয়নি। ৬ বছর আগে সে কথা তৃণমূল বলেছিল। বিজেপি গা জোয়ারি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে এসাআইআরে। তৃণমূল বলতো যে কথা সে কথা অশোক ভট্টাচার্য্য বলছে। জনগণের উদ্দেশ্যে তার বার্তা এই ভোট প্রতিবাদের প্রতিশোধের।
অন্যদিকে বিজেপির টাকা পয়সা দিয়ে ভোট লন্ঠনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তৃণমূল সর্বভারতীয় সম্পাদক বলেন শিলিগুড়িতে কাউকে কোন পাড়ায় ক্লাবে বিজেপি টাকা দিতে এলে নেবেন। পদ্মফুল থেকে টাকা নেবেন জোড়া ফুলে ভোট দেবেন। শংকর খুব অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির দল এরা কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না। বিজেপির নেচির নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় মাছ খাবেন না মাংস খাবেন না সবজি তা বিজেপি বাবুরা ঠিক করবে। মা মাটি সরকারকে বিদ্রুপ করেছে তারাই সামাজিক প্রকল্পের লাইনে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছে বলে কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন আমাদের সরকার ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করেছিল শিলিগুড়ি বিধানসভায় যুব সাথীর পনেরশো টাকা করে দিয়েছে ৩৩ হাজার যুবক-যুবতীদের। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৩ টি ওয়ার্ড ৬১ হাজার মহিলাকে লক্ষ্মী ভান্ডার দিয়েছে। ১০ লক্ষ করে মাসে দরকার লক্ষী ভান্ডার দিতে হলে। কিন্তু শিলিগুড়িতে তৃণমূল জেতেনি বিধায়ক করেননি। এটাই পার্থক্য আর বিজেপি বাংলায় হেরে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করেছে। ওরা গরীব মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে, আমাদের বাংলাদেশী দাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের ভাষাকে অস্বীকার করেছে।
গীতা পাঠে শংকর ঘোষের দল চিকেন প্যাটিস গরিব বিক্রেতাকে বেধড়ক পিটিয়েছে।
পদ্মফুলে ভোট দেওয়া মানে বহিরাগতদের ভোট দিয়ে অন্ধকার করে দেওয়া। কটাক্ষ ছুড়ে বলেন শিলিগুড়ি জানে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে! তিনি দলের ভূমিকাকেও তুলে ধরে বলেন হাজার অভিমান থাকতে পারে। তবে তৃণমূলের যত বড় নেতা হোক কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে দল থেকে বহিষ্কার করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


