শিলিগুড়ি। পূর্ণ মন্ত্রী ডঃ শঙ্কর ঘোষ ও প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উচ্ছ্বাসে ভাসছে শিলিগুড়ি শহর। বিজেপির দুই জন বিধায়ক একযোগে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় শহরজুড়ে দেখা দিয়েছে উৎসবের মেজাজ ও রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস।
উত্তরবঙ্গের সমতা ও উন্নয়নকে মূল লক্ষ্য করেই ভোটের ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একাধিকবার উত্তরবঙ্গের ঋণ শোধের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং এই অঞ্চলের অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভার তালিকায় সেই বার্তারই প্রতিফলন দেখা গেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
নতুন মন্ত্রিসভায় শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শঙ্কর ঘোষ পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া–নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সোমবার শপথ নেন। যদিও এখনো পর্যন্ত তাদের দপ্তর বণ্টন করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার উত্তরবঙ্গ থেকে একযোগে প্রায় ১০ জন বিধায়ক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শঙ্কর ঘোষের প্রতিক্রিয়ায় শিহরণ নয়, বরং এটি তাঁর কাছে যেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড়-এর সেই শঙ্করের অজানা অভিযানের মতো অনুভূতি। শপথ গ্রহণের পর নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি নিশ্চয়ই পালন করবেন। পার্টি তাঁকে যোগ্য মনে করেছে এটি তাঁর প্রাপ্তি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দশ কোটি মানুষের সরকার গঠিত হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন। তাঁর মতে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ করাই লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন মহাশয়ের দিকনির্দেশনা মেনে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একসময় পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও রুচিতে ভারতের অনন্য স্থানে ছিল, কিন্তু গত ১৫ বছরে সেই অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
শঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, এই ১৫ বছরের পতন অবর্ণনীয় এবং তা থেকে রাজ্যকে পুনরায় ঘুরে দাঁড় করাতে দীর্ঘ লড়াই প্রয়োজন। সকলের সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিভাবকত্বে সেই কাজ সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
শিলিগুড়ি নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, তিনি শিলিগুড়িকে ভালোবাসেন এবং শিলিগুড়ির মানুষই তাঁর অভিভাবক। তাঁর আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে শিলিগুড়ির মানুষের ভালোবাসা, স্নেহ ও আশীর্বাদ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্র ও যুবনেতা থেকে বিরোধী বিধায়ক এবং সেখান থেকে পূর্ণ মন্ত্রী এই যাত্রাপথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর কাছে এই সফরও ‘চাঁদের পাহাড়’-এর অভিযানের মতোই। বহু অজানা জিনিস খুঁজে বের করার মতো অভিজ্ঞতা। তাঁর ভাষায়, শেষ পর্যন্ত জয় অবশ্যই আসবে।


