শিলিগুড়ি

তিন মাসে একই সংস্থার দুই স্বর্ণালঙ্কারের শোরুমে লুটের পর শিলিগুড়ির শাখা শোরুমে নিশানা পর্দা গ্যাংয়ের

শিলিগুড়ি। গত তিন মাসে একই সংস্থার দুই স্বর্ণালঙ্কারের শোরুমে লুটের পর এবার শিলিগুড়ির সেবক রোডের শাখাও নিশানায়। তবে এ বার চুরির ছক ভেস্তে দিল শোরুমের এআই-সক্ষম নজরদারি ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতা। সোমবার গভীর রাতে চুরির চেষ্টা চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। আরও এক দুষ্কৃতি পালিয়েছে। তার খোঁজে বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে পূর্ব চম্পারণ যোগ।

পুলিশ সূত্রের খবর, কর্মীরা শোরুম বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে তিন দুষ্কৃতি শাটার খুলে ধাতব অস্ত্র দিয়ে কাঁচের দরজার লক ভেঙে ভিতরে ঢোকে। গ্যাংয়ের কায়দা অনুযায়ী বাইরে একটি চাদর টাঙিয়ে তারা গোটা অভিযান চালায়, যাতে বাইরে থেকে দেখে মেরামতির কাজ চলছে বলে মনে হয়। পরে সেই চাদর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, আগে থেকেই রেইকি করা ছিল। তাই ভিতরে ঢুকেই রুপোর অলঙ্কারের অংশ এড়িয়ে সরাসরি সোনার গয়নার শোকেসে পৌঁছে যায় দুষ্কৃতীরা। শোকেস ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড হাতানোর চেষ্টা শুরু হতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সেন্সর-যুক্ত অ্যালার্ম ও এআই ক্যামেরা। মুহূর্তের মধ্যে সংস্থার কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। ভক্তিনগর থানায় খবর দেওয়া হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

অলঙ্কার প্রস্তুত ও বিপণন সংস্থার নর্থ ইস্ট জ়োনের সিনিয়র ম্যানেজার নাতাশা মার্টিনের দাবি, পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ প্রথমে শোরুমের বাইরে পাহারায় থাকা গৌতম কুমারকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভিতরে চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ধর্মেন্দ্র সাহানি। তবে তাদের এক সঙ্গী পালিয়ে যায়। ধৃত দু’জনই বিহারের পূর্ব চম্পারণের বাসিন্দা। ওই জেলার জিতনা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অপরাধের পূর্ব রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছে, সোমবার বাসে করে তারা শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে পৌঁছয়। রাতে বৃষ্টির সুযোগে অভিযান চালানো হয়। তাদের কাছ থেকে কোনও মোবাইল ফোন মেলেনি। তাই এটি একটি প্রশিক্ষিত আন্তঃরাজ্য চক্রের কাজ বলেই তদন্তকারীদের অনুমান।

সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ মার্চও একই শোরুমে চুরির চেষ্টা হয়েছিল। গত দুই-তিন মাসে একই কায়দায় গৌহাটি ও বর্ধমানে সংস্থার আরও দুটি শোরুমে লুটের ঘটনাও ঘটেছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ভাবে এই সংস্থার শোরুমগুলিকেই টার্গেট করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার স্কেচও তৈরি করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে একটি স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সেবক রোডের এই চুরির চেষ্টায় উদ্বেগ বেড়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে। সেবক রোডে পরপর ১৩টি স্বর্ণালঙ্কারের শোরুম রয়েছে। তাই ওই এলাকায় রাতের পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

Share Messenger Whatsapp Post