🔺🔺মাটিগাড়া আঠারো খাই গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতিতে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি। পুজোর আগে সরকারি নিয়ম লংঘন করে বেআইনিভাবে মাস্টার রোলের নামে পঞ্চায়েত সদস্যদের পকেটে উঠলো মোটা অংকের টাকা আঠারোখাই পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলছেন বিজেপি বিধায়ক আনন্দ বর্মন

শিলিগুড়ি। মাটিগাড়া আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি। পুজোর আগে সরকারি নিয়ম লংঘন করে বেআইনিভাবে মাস্টার রোলের নামে পঞ্চায়েত সদস্যদের পকেটে উঠলো মোটা অংকের টাকা। সরকারি কোষাগার থেকে বেআইনিভাবে টাকা লুটের ভাগের অর্থ পৌঁছলো বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যদের পকেটও। যদিও বিজেপি নাটকীয়ভাবে টাকা নিয়ে আঠারো খাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুর চড়িয়েছে! অভিযোগ শ্রমিকদের নাম করে পঞ্চায়েত সদস্যরা ১০হাজার থেকে ১৭ হাজার ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভুয়ো শ্রমিক ও কাজের নামে নিজেরা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এলাকার ভুয়ো শ্রমিকদের নাম দিয়ে এই লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। রাজ্য সরকারের তরফে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে মাস্টার রোলের এলাকার উন্নয়ন কাজের শ্রমিকদের টাকা তোলার বেশ কিছু নিয়মাবলী প্রযোজ্য রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পরিষ্কার ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি রয়েছে মাস্টাররোল বাবদ পঞ্চায়েত সদস্যরা মর্জি মাফিক অর্থ নিতে পারবে না।নিয়মে উল্লেখ্য রয়েছে ২০০০হাজার টাকার বেশি অর্থ প্রদান করতে হলে সরকারি নিয়ম অবলম্বন করে প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সেক্ষেত্রে চেক এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে অর্থ প্রদান করা হবে। কোনভাবেই নগদ অর্থ প্রদান করা যাবে না। অথচ একেবারে প্রকাশ্য দিবালোকে খোলামেলা পুজোর মুখে আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে এই দুর্নীতি ঘটনা ঘটেছে।জানা গিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৬জন সদস্যকে মঙ্গলবার গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে মর্জি মাফিক দশ হাজার পনেরো হাজার কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় নগদে। এই সবটাই ভুয়ো শ্রমিক ও কাজের নামে আত্মসাৎ করেছেন পঞ্চায়েত সদস্যরা। তাজ্জব ভাবে এই দুর্নীতিতে আবার একসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতে হাত জোট বেধেছেন তৃণমূল বিজেপি সিপিএম। তৃনমূল ১৯জন সদস্য, বিজেপির ছয় সদস্য ও সিপিএমের এক পঞ্চায়েত সদস্য বেআইনিভাবে এই অর্থ আত্মস্থ করেছেন। এ ধরনের দুর্নীতি নতুন কিছু নয় একাধিক বার পঞ্চায়েত সদস্যদের বিভিন্ন রকম বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে
এর আগেও পঞ্চায়েত সদস্য হয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে প্রোমোটারির কারবারে নাম জড়িয়েছে ২ পঞ্চায়েত সদস্যের। যাতে নাম জড়ায় পঞ্চায়েত সদস্য যুথিকা রায় সহ একাধিক সদস্যের। আর এবারে সরাসরি পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে বসে খোলামেলা দুর্নীতির প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে পুর প্রধান সন্তু দাস ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় দায়িত্বে থাকা পঞ্চায়েত সদস্য সরস্বতী রায়ের বিরুদ্ধে।
সরস্বতী রায় আবার সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা পদেও রয়েছেন। বিজেপির মাটিগারা নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দ বর্মন বলেন আঠারো খাই প্রোগ্রাম পঞ্চায়েতে প্রতি পদে দূর্নীতি চলছে। পূর্বেও ভুঁড়ি ভুঁড়ি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একই রাস্তা দুই দফায় টেন্ডার করা হয়েছে। একবার রাজ্য সরকারের তরফে প্রকল্পের আয়তায় টেন্ডার করা হয়েছে রাস্তা সেই রাস্তায় পুনরায় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দ্বিতীয় দফার টেন্ডার ডাকা হয়। খোলামেলা এই দুর্নীতির কারবার চলছে তৃনমূলের নেতৃত্বে আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে। এদিকে বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যদের এই দুর্নীতিতে সামিলের বিষয় তিনি বলেন-পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্বে তৃণমূল রয়েছে ফলের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে বিজেপি তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় নেই। আর বিজেপি বিরোধী দলনেতা অভিযোগও করেছেন পুরো বিষয়টি পর্দা ফাঁস করতেই বিজেপি সদস্যরা এই পথ নিতে বাধ্য হয়েছে।

আরও অভিযোগ প্রতি মাসেই এভাবে মাস্টার রোলের টাকা তোলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরা। বিজেপি বিধায়ক আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে যে ক্রমাগত দুর্নীতি চলছে তার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তেরও দাবি তুলেছেন তিনি। আঠারোখাইয়ের তৃনমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের এই দুর্নীতি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না। সিবিআই এর মাধ্যমে এর যথোপযুক্ত তদন্ত হওয়া দরকার।এ বিষয়ে মাটিগাড়া ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসনের তরফের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

You cannot copy content of this page