শিলিগুড়ি

নেই নিলবাতি,নিরাপত্তা! নিজ চাঁদের পাহাড় শিলিগুড়িতে পায়ে হেঁটেই শঙ্কর

নিজ শহরে নিরাপত্তা নয়, মানুষের ভিড়েই হাঁটতে চান মন্ত্ৰী শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়ি। নেই নীল বাতি, পুলিশি পাইলট এস্কটহীন অতি সাধারণ হয়ে পায়ে হেঁটে চলছেন নিজ শহর শিলিগুড়িতে রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এ শহর তার কাছে ভালোবাসার চাঁদের পাহাড়!তাই চাঁদের পাহাড়ে আনাচে কানাচে পৌছতে বিভূতিভূষনের শঙ্করের মতোই এ শঙ্করও অনাড়ম্বরভাবে এগিয়ে যেতে চায়! চেনা চাঁদের পাহাড়ের মোহময়ী রূপ যেমন অপলক দৃষ্টিতে দেখতে চান তেমনি খতিয়ে দেখছেন আড়ালে কঙ্কালের মতো বছরের বছর চাপা পড়া দুর্নীতি। সদ্য দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ খতিয়ে দেখে কখনও রিপোর্ট করছেন উপরমহলে, কখনও আবার তৎক্ষণাৎ দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ কড়া নির্দেশ।বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে ছোট্ট গাড়িতে চেপে মন্ত্রী শহরের নৌকাঘাট হয়ে পৌছন প্রধাননগরের এক আশ্রমে।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গৌরবময় ১২বছরের দীর্ঘ সফর পূর্তির উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশ পাইলট সমস্ত কিছুকে দেন ছুটি! দায়িত্বরত পুলিশ আধিকারিককে জানান যে শহরে তার বেড়ে ওঠা, রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র নেতা থেকে যুব নেতা ও বিধায়ক এবং আজ মন্ত্ৰীর হয়ে ওঠার পথচলা সে নিজ শহরের বুকে তার কোনোরকম বাড়তি নিরাপত্তার দরকার নেই। মন্ত্রীর প্রোটোকল অনুযায়ী পুলিশি পাইলট থেকে নীল বাতির গাড়ি কনভয় বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা কিছুই রাখতে চান না তিনি। মন্ত্রী কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারীককে জানান পুলিশ নিরাপত্তা পাইলট ভ্যান এসব দরকার নেই। পুলিশ কর্মীদের নিয়ে চলে যান। পুলিশ কর্মীদের মন্ত্ৰীর নিরাপত্তায় সর্বক্ষণ না থেকে আইন শৃঙ্খলা সামালের পাশাপাশি বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। কোনো অসুবিধা নেই, আমার কোনো সমস্যা হলে জানাবো তাও জানান।

আবার ট্র্যাফিক পুলিশ যখন দীর্ঘ সময় ধরে সিগন্যালের অপেক্ষায় মন্ত্রী এলে থামিয়ে দিতে হবে অন্য গাড়ির স্বাভাবিক গতি। চিরন্তন নিয়মে বিশেষ করিডরে ছেড়ে দিতে হবে কনভয়কে সেসব চিন্তায় মগ্ন। সেসময় মন্ত্রী নিজেই নীরবে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেটেই রওয়না দিচ্ছেন বৈঠকের উদ্দেশ্যে। মন্ত্রী কে পায়ে হেঁটে যেতে দেখে রীতিমতো পথ চলতি গাড়ি চালকদের চক্ষু বিস্ফারিত!কেউ দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন আবার অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন মন্ত্রীর দিকে সাধারন  মানুষ। এ শহর আগেও মন্ত্রী পেয়েছে সাক্ষি থেকেছে রাজনীতি আর ক্ষমতার পালাবদলের। তবে চিরাচরিত প্রোটোকল সরিয়ে বেড়িয়ে আসা এমন ছবি দেখেনি শহরবাসী!

Share Messenger Whatsapp Post