৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি কর্মী তথা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা মাখন লাল সরকারকে সম্মান জানিয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড মঞ্চ।
শিলিগুড়ি। ৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি কর্মী তথা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা মাখন লাল সরকারকে সম্মান জানিয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড মঞ্চ। শনিবার রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রবীণ এই কর্মীকে আলিঙ্গন ও সম্মান জানান। সেই দৃশ্য টিভির পর্দায় দেখে আনন্দাশ্রুতে ভেঙে পড়েন স্ত্রী পুতুল সরকার।শিলিগুড়ির ডাবগ্রামের অত্যন্ত সাধারণ বাড়িতেই কাটে মাখন লাল সরকারের জীবন। বাহুল্যহীন জীবনযাপনের মধ্যেও আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অটুট। ১৯৫১ সাল থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয় জনসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরে ১৯৮০ সালে শিলিগুড়ি জেলা বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও সামলান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস আমলে রাষ্ট্রীয় গান গাওয়ার অভিযোগে দিল্লিতে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল তাঁকে। পরে আদালতে বিষয়টি উঠলে বিচারপতি তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করেন। স্ত্রী পুতুল সরকারের কথায়, স্বামী আদর্শ ও দেশকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছেন। সংসারের পাশাপাশি দলকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি কোনওদিন বাধা দিইনি।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রারও শরিক ছিলেন মাখন লাল সরকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও রাজ্যের বহু পালা বদলের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। পরিবারের দাবি, তাঁদের বাড়িতে একসময় নিয়মিত যাতায়াত ছিল বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বদের। বড় ছেলে মানিক সরকার জানান-এই সম্মান ভাষায় প্রকাশ করার নয়। প্রধানমন্ত্রী বাবাকে যেভাবে সম্মান দিয়েছেন, তা আমাদের পরিবারের গর্ব।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট বলেন- কর্মীরাই বিজেপির মেরুদণ্ড। প্রধানমন্ত্রী মাখনলাল সরকারজিকে সম্মান জানিয়ে সেই বার্তাই দিয়েছেন। অন্যদিকে মাখন লাল সরকারের বক্তব্য,দেশকে ভালোবেসে, আদর্শকে সামনে রেখেই পথ চলেছি। আজকের এই সম্মান ঈশ্বরের আশীর্বাদ।


