শিলিগুড়ি

পূর্ণিমার রাতে রাজকন্যার এসস্কেপ রূট ধরেই এবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের রোমাঞ্চকর সফর!

পূর্ণিমার রাতে রাজকন্যার অন্তর্ধান রূট ধরেই এবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের রোমাঞ্চকর সফর। প্রথমবার বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের একাধিক খেলনা ট্রেন পরিষেবা চালু হতে চলেছে। দার্জিলিঙ পর্যটনে নয়া দিগন্ত

শিলিগুড়ি। পূর্ণিমার রাতে রাজকন্যার অন্তর্ধান রূট ধরেই এবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের রোমাঞ্চকর সফর। প্রথমবার বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের একাধিক খেলনা ট্রেন পরিষেবা চালু হতে চলেছে। দার্জিলিঙ পর্যটনে নয়া দিগন্ত।সে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কথা! পুরোনো সে দিনের প্রচলিত কথায় লুকিয়ে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত টয় ট্রেনের ঐতিহ্যঘেরা অধ্যায়ের প্রায় জন্ম লগ্ন ১৯২০র দশকের কোচবিহারের রাজকন্যার সফর পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ে। রাজকন্যার আগমন ঘিরে হিমালয়ের কোলজুড়ে রাজকীয় কতশত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের শশব্যস্ততা। দার্জিলিংয়ের উইন্ডামেয়ার হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ নৃত্যানুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় রাজকন্যাকে। কিন্তু সে সন্ধ্যার আয়োজনে আর আলোক রোশনাই বড় একঘেঁয়ে আকর্ষণহীন হয়ে ওঠে রাজকন্যার কাছে।তবে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে জমকালো বিনোদনের যে আসর তা ছেড়ে বেড়িয়ে পড়া খুব সৌজন্যের হবে না ব্রিটিশ লর্ড সাহেবদের চোখে। তাই রাজকন্যাকে সে বিরাট বিনোদনের আসর ছাড়তে দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সহযোগিতায় গোপন রুটে বেড়িয়ে পড়তে হয়।সে পূর্ণিমা রাতে অতি সতর্কতা অবলম্বন করেই রাজকন্যার রোমাঞ্চিত অন্তর্ধান।

পাহাড়ের আলো আধাঁরীকে সঙ্গী করে নেমে আসতে লাগেন তিনি, তবে মাঝে পথের ক্লান্তি আর পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় টয়ট্রেনের কামরা আকৃষ্ট করে রাজকন্যাকে, সে রাতে চাঁদের আলো টয়ট্রেনের কামরায় মায়াবী আসর সাজিয়ে কাটান রাজকন্যা। আর সেই প্রচলিত লোককথায় এই রুট আজও রাজকন্যার অন্তঃধানে পরিচিত। সে ডাউন দ্য মেমরি লেন ধরে পূর্ণিমা সন্ধ্যায় ছুটবে খেলনা ট্রেন। মার্চ মাসের প্ৰথম সপ্তাহ থেকে রাজকীয় ‘এস্কাপেড’-এর সে রুট ছুঁয়ে যাবে বিশেষ চার্টাড পরিসেবা মহারানী গ্রেট এস্কেপেড। প্রতি পূর্ণিমা রাতে এই পরিসেবা চলবে। ডিরেক্টর রিশভ চৌধুরী জানান বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হবে, এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেন ছাড়বে। ট্রেনে পরিবেশন করা হবে তিব্বতি চা। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ট্রেনটি রংটং থেকে সুকনা হয়ে গুলমা চা-বাগানের মাঝ দিয়ে মায়াবি পথে ছুটে চলবে। গুলমায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন রয়েছে, এরপর চাঁদের আলোয় চা-পাতা তোলার বিশেষ অভিজ্ঞতাও উপভোগের সুযোগ মিলবে দেশ বিদেশের পর্যটকদের। অন্যদিকে সম্ভবত হেরিটেজ দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলের ইতিহাসে এক প্রথম বন দপ্তরের ও দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেল যৌথভাবে পর্যটন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছে।কার্শিয়াঙ ডিএফও জানান এই প্রথম বার ডিএইচআরের সঙ্গে মিলে একত্রে পাহাড়ি গহন অরণ্যে ট্রেকিং ও টয়ট্রেনের সফরের অনুভুতি মিলবে দেশ বিদেশের পর্যটকদের।গুগল সার্চে টপ হন্টেড ডেস্টিনেশনের হিসেবে কার্শিয়াং এর এমনিতেই বিদেশী পর্যটকদের কাছে হট কেক। মূলত সেই সুযোগ কি কাজে লাগিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যের আকর্ষণীয় বাঘিরা ট্রেইল সানসেট রাইড হেরিটেজ খেলনা নতুন পরিষেবা চালু ডিএইচআরের।

ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান দার্জিলিঙ
কার্শিয়াঙ স্টেশনের মাঝে দুটি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএইচআর। ডিএফও জানান স্টেশন থেকে ডাউহিলে পৌঁছবে পর্যটকেরা সেখান থেকে জনপ্ৰিয় ডাউহিল ডেথ রুট ধরে ট্রেকিংয়ের পথ। মূল ট্রেকিংয়ের পথ ৬ ঘন্টার হলেও পর্যটক এরা ইচ্ছেমতো আড়াই ঘণ্টা থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে স্বল্প দূরত্বের এই ট্রেকিং সম্পন্ন করতে পারবে। ট্রেকিং এর মাঝে প্রাচীন ঐতিহাসিক ফরেস্ট মিউজিয়াম,হেভেন ভিউ পয়েন্ট এবং পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মনস্ট্রি দর্শনের সুযোগ পাবে।
এতে টয় ট্রেনের স্বপ্ন সফরের হাতছানির পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনে উৎসাহী পর্যটকদের জন্য একেবারে রোমাঞ্চকর সফর হয়ে উঠবে। ট্রেক শেষে অংশগ্রহণকারীদের কার্শিয়াং রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হবে, সেখান থেকে সন্ধ্যার আগে ডিএইচআর মহানদীর উদ্দেশে রওনা দেবে।

পথে গিদ্দা পাহাড়ে বিরতি এবং নেতাজি মিউজিয়াম পরিদর্শনের ঐচ্ছিক সুযোগও থাকবে।ডিএফও জানান দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি কার্শিয়াঙকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্র তুলে ধরতে এই বিশেষ উদ্যোগ। ইতি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সঙ্গে বনদপ্তরের হাত ধরে এলাকার ইকো ট্যুরিজম এবং ইকো ভিলেজ এর সঙ্গে যুক্ত পাহাড়ি বন বস্তিবাসীদের আর্থসামাজিক স্থিতির বিকাশ ঘটবে।

Share Messenger Whatsapp Post