🔺 শিলিগুড়িতে অরিজিৎ এর ভ্যেনু ঘিরে বড় সংশয়! অনিশ্চিত অনুষ্ঠান। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দাখিল

🔺বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক আসন নিয়ে অনৈতিকভাবে অনুষ্ঠানের ছাড়পত্র, যানজটে অবরুদ্ধ হবে শহর আশঙ্কা প্রকাশ

🔺 হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে উঠলো মামলা। ৩রা এপ্রিল লাইভ কনসার্টের ২৪ঘন্টা আগে আদালতে নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে ৪ঠা এপ্রিল অনুষ্ঠানের ভবিষ্যৎ

শিলিগুড়ি। কাঞ্চনঝঙ্গা স্টেডিয়ামে অরিজিৎ এর ভ্যেনু ঘিরে বড় সংশয়! জন স্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে। কাঠগড়ায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা। প্রশ্নের মুখে পুরনিগম। কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলেও অনিশ্চিত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের ২৪ঘন্টার আগে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে কনসার্টের ভবিষ্যত। কাঞ্চনজঙ্ঘের স্টেডিয়ামে লাইভ কনসার্টের ঘোষণের পর থেকেই একের পর এক অনিয়মের জট উঠে আসে। অনুমোদন বাণী অনুষ্ঠানের স্থল ঘোষণা করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আয়োজক সংস্থাকে। অনুষ্ঠানের স্থান ঘোষনা হয়ে যাওয়ার পর পুরনিগমের তরফে রাতারাতি উদ্যোক্তাদের দেওয়া হয় অনুমোদন। স্টেডিয়ামে একাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিতকরনের পরও অনৈতিকভাবে অনুষ্ঠানের ছাড়পত্র দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বেই পুরনিগমের ভূমিকা প্রশ্ম চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। এবারে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানুষের জীবন হানির আশঙ্কা প্রকাশ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন শিলিগুড়ি আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী অখিল বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে দায়ের হয় জন স্বার্থ মামলা। আইনজীবীর বক্তব্য স্টেডিয়াম মাঠে ৪ঠা এপ্রিল সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্ট সম্পূর্ণভাবে দুটি বাণিজ্যিক সংস্থার অনুষ্ঠান। সঙ্গীতানুষ্ঠান শহরের অন্যত্রও হতে পারে। আইনজীবী বলেন ক্রীড়া প্রেমী হিসেবে বলছি খেলার স্টেডিয়ামে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনে মাঠের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আদালতকে জানিয়েছেন তিনি। যখন সরকারের পূর্ত দপ্তর ইতিপূর্বেই সমীক্ষা করে স্টেডিয়াম ও গ্যালারির একাংশকে বিপদজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে সেসময় প্রায় ২০হাজারের কাছাকাছি দর্শকাসন নিয়ে স্টেডিয়ামে এ ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আইনজীবী সাফ বক্তব্য দর্শক ও শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা আশংকার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেলে তার দায়ভার কে নেবে? কারন শহরের কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠান ঘিরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে। বর্তমানে শিলিগুড়ি শহরের নিত্যদিনের জ্বলন্ত যানজটের সমস্যা। সেক্ষেত্রে শহরের কেন্দ্রে এ ধরনের অনুষ্ঠান গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠবে। একেবারে শহরের কেন্দ্রস্থলে স্টেডিয়াম হওয়ায় এই অনুষ্ঠান ঘিরে সমস্ত রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা। স্টেডিয়ামের চত্ত্বরের ২০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং তিন থেকে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল। উদ্যোক্তাদের ঘোষণা মত শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ফসিন গেট থেকে এগারো বারো সবকটি গেট দিয়েই এন্ট্রি পয়েন্ট করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে যাওয়ার মুখের সবকটি রাস্তায় কনসার্ট ঘিরে ভয়ঙ্কর যানজটের সৃষ্টি হবে। গুরুতর আশঙ্কাজনক রুগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হবে বলেও আশঙ্কা। শিলিগুড়ির ওই চত্বর জুড়েই রয়েছে বিচারপতিদের আবাসন, এসডিও বাংলো, শিলিগুড়ি আদালত। সবমিলিয়ে নিরাপত্তাজনিত ক্ষেত্রে শহরের এই এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে এ ধরনের অনুষ্ঠান হলে নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, হাসপাতালের রাস্তা অবরুদ্ধ হলে রুগীর প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। যাতে এক কথায় শহরের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই এলাকায় হাজার হাজার হাজার দর্শকের চাপের মুখে নিরাপত্তা ভেঙে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতকে জানিয়েছেন আইনজীবী।
হাইকোর্ট এর জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা ফাইল হয়েছে। শুনানির তারিখ ঘোষণা করেছে আদালত। ৪ঠা এপ্রিল অরিজিৎ এর কনসার্টের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে ৩রা এপ্রিল শুনানির দিন ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশের ওপরে নির্ভর করছে এখন অনুষ্ঠানের ভবিষ্যৎ। ইতিমধ্যেই বিগত একমাস যাবত কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। হাতে গোনা আর কয়েকটা বাকি অনুষ্ঠানের। আর এ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে এই অনুষ্ঠানের ভবিষ্যত।২৪ ঘন্টা আগে আদালত অনুষ্ঠান বাতিল করলে কিভাবে উদ্যোক্তারা টাকা ফেরত দেবেন সে প্রশ্নই এখন ঘুরছে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি পুরো নিগমের ভূমিকা ও আদালতের কাঠগড়ায় উঠেছে।কারন পূর্ত দপ্তরের সমীক্ষা করে স্টেডিয়ামের একাংশকে বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিতকরণের পর কেন অসংখ্য মানুষের প্রাণের ঝুঁকি নিতে চলেছেন পুরোনিগম কর্তারা? বাণিজ্যিক সংস্থার দায়বদ্ধতা সে অর্থে না থেকে থাকলেও পুরনিগম কিভাবে এই অনৈতিক ছাড়পত্র প্রদান করলো সে বিষয়টিও আইনজীবী হাইকোর্টের আদালতের সার্কিট বেঞ্চের কাছে উল্লেখ্য করেছেন। আইনজীবী জানিয়েছেন দুই দফায় পূর্ত দপ্তরেরর সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে অবস্থা এবং শিলিগুড়ি শহরের যানজটের যে পরিস্থিতি তাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্টেডিয়ামের সঙ্গীতানুষ্ঠান ঘিরে অনুরাগীদের ভীড় জমবে এতে গোটা শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশংকা ব্যক্ত করে চিঠিতে পুরনিগমকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও পুরো নিগমের তরফে কোনরকম জবাব মেলেনি। তাদের এই আচরনের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ মিলছে,ফলে নাগরিক নিরাপত্তার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলেও উচ্চ আদালতের সার্কিট বেঞ্চেকে জানিয়েছেন আইনজীবী অখিল বিশ্বাস।

এমনকি এর সঙ্গে সঙ্গীত জাদুকর অরিজিৎ সিংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। আইনজীবীর আশঙ্কাকে যে উড়িয়ে দেওয়া যায়না তা খুব ভালো ভাবে জেনেই প্রায় নিশ্চুপ অবস্থানে রয়েছে পুরোনিগম ও প্রশাসন। যদিও স্টেডিয়াম ইস্যুতে মেয়র গৌতম দেব সাফাইয়ের সুরে এ প্রসঙ্গে একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সম্মুখে দশক পূর্বের সালমানের খানের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে দায় ঝাড়তে চাইছেন মেয়র। প্রশ্নের মুখে এপ্রিলে অনুষ্ঠান হলে মে থেকে আর কোনো বানিজ্যিক অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হবে না তাও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন মেয়র। তবে দশক পূর্বে ২০১৫এর আশপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে সালমান খান সহ অন্যান্য শিল্পীদের অনুষ্ঠান হলেও তৎকালীন সময়ের সঙ্গে শহরের যানজট সমস্যা বিরাট ফারাক রয়েছে। সেসময়তে শহরে নিত্যদিন যানজট সমস্যা প্রকট হয়নি। অথচ বিগত দিনে উৎসব অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শেষ উত্তরবঙ্গ সফরকারি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান ঘিরে ট্রাফিক সামলে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। নাকাল হতে হয়েছে আম সাধারণকে। লাইভ কনসার্ট হলে বিগত দিনের এ ধরনের অনুষ্ঠানের থেকেও যানজটের সমস্যা আরও বড় আকার নিয়ে পরিস্থিতি বীভৎস হয়ে উঠবে। তবে সঙ্গীতানুষ্ঠান ঘিরে একের পর এক অনিয়ম দায়িত্বজ্ঞান হীন ভূমিকা নিয়ে ক্ষুদ্ধ অরিজিৎ অনুরাগীরা। অরিজিৎ-এর নিরাপত্তা নিয়ে কোনরকম আপোষ নয় সাফ জানাচ্ছেন অনুরাগীরা।

 

 

You cannot copy content of this page