বাম ও দলের বিক্ষুব্ধ গোজ কাটায় বিদ্ধ বিজেপি। ভোটের মুখে একের পর এক অভিযোগ আর বির্তকে দাগি হয়ে উঠছে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের অঙ্গন। হিন্দী ভাষী বিহারী সমুদয়ের বাছাই কিছু ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক ঘিরে পুরো বিহারী সমাজের উল্লেখকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ভাজপা।প্রার্থীর দিন যাপন নিজস্ব কর্মসূচি ঘিরেও বিতর্ক
শিলিগুড়ি। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরের টানাপোড়েন প্রকট হয়ে উঠছে।একদিকে বাম ভোট পুনরুদ্ধার অন্যদিকে দলের বিক্ষুব্ধ অংশের ধারাবাহিক গোজ কাটা এই দ্বিমুখী ফ্যাক্টরে কার্যত চাপে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ভাজপার পক্ষে ভোটের লড়াই টিকিয়ে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে।
ভোটের মুখে একের পর এক অভিযোগ ও বিতর্কে দাগি হয়ে উঠছে শঙ্কর ঘোষের প্রচারপরিসর। সম্প্রতি হিন্দিভাষী বিহারী সম্প্রদায়ের নির্বাচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি বৈঠক ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বৈঠকে গোটা বিহারী সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সম্প্রদায়ের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সমগ্র বিহারী সমাজের প্রতিনিধি হতে পারে না, এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা ভুল বার্তা বয়ে এনেছে। বিজেপির হিন্দি ভাষী একচেটিয়া ভোটে এবার থাবা বসিয়েছে তৃনমূল।
এদিকে, বাম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী ক্রমশ জমি শক্ত করছেন।দেখা যাচ্ছে বাম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্ত্তী ইতিমধ্যেই ভাজপা প্রার্থী শঙ্করের জোড়ালো প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। তারওপর এবারে বামেদের পার্টি লাইন-এর নির্দেশ বাম ভোট পুনরুদ্ধারের। যার ফলস্বরূপ রাম বাম অঘোষিত গাঁটছড়া ভাঙনের মুখে। সেখানে বাম ঘরে বেড়ে ওঠা রামের বিদায়ি বিধায়ক প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির অংকে বড় ধাক্কা বয়ে আনছে। একসময়ের সতীর্থ কমরেডদের ভোটের উপর উত্তরাধিকার হারা এই স্থিতি বিজেপি প্রার্থী শঙ্করকে জোড় চাপের মুখে ফেলছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বেে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে।
অন্যদিকে, বিজেপির অন্দরেই অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে।দলের পুরনো কর্মী ও নেতৃত্বের বড় অংশ শঙ্কর ঘোষের বিরোধিতায় সরব হয়ে আলাদা মঞ্চ গড়ে তুলেছে। ভারতীয় সনাতন হিন্দু মঞ্চ-এর ব্যানারে তরুণ তলাপাত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরনো কর্মী তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, এমনকি বিজেপি দলের অন্দর থেকেও নীরব সমর্থন মিলছে। এর ফলে ভোটের অঙ্কে বড়সড় হেরফেরের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রচারের ক্ষেত্রেও শঙ্কর ঘোষের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জনসংযোগ বাড়াতে ‘দিনযাপন’ কর্মসূচি নিলেও তা পরিকল্পনাহীন ও বিচ্ছিন্ন বলেই অভিযোগ। একদিকে অল্প সময়ের জন্য এলাকায় উপস্থিতি থেকেই মাঝপথে কর্মসূচি ছেড়ে দলীয় বৈঠক যোগ ও দলীয় মহিলা দের কর্মসূচিতে শামিল এই অসংগতি প্রচারে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট করেছে।
তার ওপর অতীতের কিছু বিতর্কিত মুহূর্তও ফের সামনে এসেছে। বাম শিবিরে শঙ্করের মুখে মোদি সরকার বিরোধী স্লোগান, লাঠি হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাখার পুরোনো ছবি এসবই নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে। ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণের মুখে পড়ে কার্যত ডিফেন্স পজিশনে নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সুতার্কিক শঙ্কর।
সব মিলিয়ে, বাম ঘরে বেড়ে ওঠা রামের বিদায়ি বিধায়ক প্রার্থী দলের অন্দরের বিভাজন এবং লাগাতার বিতর্ক, প্রচারে শৃঙ্খলার অভাব ও বাম ভোট হারা ত্রিমুখী চাপে বিদ্ধ। ভোটের মুখে এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


