শিলিগুড়ি

শিলিগুড়িতে জনজোয়ারে ভাসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শিলিগুড়ি। এমন জনজোয়ার বহুদিন দেখেনি শিলিগুড়ি! একদিকে বাঙালির চিরাচরিত ‘এসো হে বৈশাখ’-এর আমেজ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা এই যুগলবন্দিতে বুধবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি যেন এদিন প্রাণের স্পন্দনে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
প্রধাননগরের হেরিটেজ হোটেল থেকে হাসমি চক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রাপথে ছিল জনস্রোতের ঢেউ। হিলকার্ট রোড জুড়ে রাস্তার দু’ধারে আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষের ঢল, শুধু একঝলক ‘দিদি’-কে দেখার আশায়। দুপুর গড়ানোর আগেই জনতার ভিড় জমতে শুরু করে; বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে শোভাযাত্রা শুরু হলেও প্রতীক্ষার পরও দিদিকে ঘিরে উন্মাদনা তখন চরমে।
মানুষের আবেগে ভরা এই জনসমুদ্রের মাঝে উঠে আসে অসংখ্য মানবিক মুহূর্ত। অশীতিপর এক প্রবীনা কাঁপা গলায় বলেন, “একবার দেখতে এসেছি, ঘরের মেয়ের মতোই তো স্নেহ করি।” আবার হিলকার্ট রোডে দাঁড়িয়ে টুকটুকে লাল গোলাপ হাতে এক খুদে সরলতা ভরা কন্ঠ “দিদির জন্য এনেছি”তার সরল উচ্চারণ যেন ভিড়ের মাঝেও আলাদা করে ছুঁয়ে যায় হৃদয়।
এই পদযাত্রার অন্যতম সুর ছিল ঐক্য ও সম্প্রীতি। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা তুলে ধরতে শোভাযাত্রার প্রথম সারিতে স্থান করে দেওয়া হয় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের। নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চেও মুখ্যমন্ত্রীর একতা, সহাবস্থান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা স্পষ্ট।

সংস্কৃতির বর্ণিল মেলবন্ধন ছিল শোভাযাত্রার আরেক আকর্ষণ। সহস্র ঢাকের বাদ্যি, হলুদ শাড়িতে সজ্জিত মহিলা ঢাকিদের তালে মুখরিত পরিবেশ, আদিবাসী সমাজের ধামসা মাদলের ছন্দ, রাজবংশী সম্প্রদায়ের বৈরাতি নৃত্য, পাহাড়ি নেপালি সংস্কৃতির উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক অনন্য লোকসংস্কৃতির রঙিন ক্যানভাস হয়ে ওঠে এই পদযাত্রা। লাল পাড় সাদা শাড়িতে বাঙালি মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনাও যোগ করে বিশেষ মাত্রা।
শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসীদেওয়া এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে এগিয়ে চলে এই বিশাল পদযাত্রা। উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস ও সমর্থন যেন স্পষ্ট বার্তা দেয় যতই বাধা আসুক, বাংলার নেতৃত্বে আস্থা অটুট।
হাসমি চকে পৌঁছনোর পর মুহূর্তের জন্য থমকে যায় শহর। চারিদিকে শুধু জনপ্লাবন, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী কর্মসূচির ব্যস্ততা থেকে থাকলেও মানুষের আবেগকে সম্মান জানিয়ে গাড়িতে ওঠার মুখে আবার ফিরে তাকান তিনি, করজোড়ে অভিবাদন জানান, যেন নীরব ভাষায় প্রতিশ্রুতি দেন এই সম্পর্ক অটুট থাকবে।
নববর্ষের এই দিনে শিলিগুড়ির বুকে লেখা রইল এক স্মরণীয় অধ্যায় যেখানে উঠে এল মানুষের আবেগ যা শিলিগুড়িতে গৌতম দেবের নির্বাচনী লড়াইয়ে কয়েক গোলে এগিয়ে রাখছে।

Share Messenger Whatsapp Post