শিলিগুড়ি

বছরের পর বছর ভারতের জেলে চীনা নাগরিক,শুনানির দিনে বান্ধবী আদালতে পৌছতে অচৈতন্য অভিযুক্ত

বেআইনী ভাবে অনুপ্রবেশের মামলায় টানা তিন বছর ভারতের জেলে!তদন্তে উঠে এসেছে কাঠ পাচার চক্রের যোগও।ভরা আদালতে দিল্লি নিবাসী প্রেমিকার কোলে মাথা রেখে আচমকা অচৈতন্য অভিযুক্ত- আতঙ্ক, মানসিক চাপ নাকি সিনেমার কায়দায় টানটান স্ক্রিপ্ট!

শিলিগুড়ি। বেআইনী ভাবে অনুপ্রবেশের মামলায় টানা তিন বছর ভারতের জেলে!তদন্তে উঠে এসেছে কাঠ পাচার চক্রের যোগও।ভরা আদালতে দিল্লি নিবাসী প্রেমিকার কোলে মাথা রেখে আচমকা অচৈতন্য অভিযুক্ত- আতঙ্ক, মানসিক চাপ নাকি সিনেমার কায়দায় টানটান স্ক্রিপ্ট! সে চর্চা ঘিরে সরগরম শিলিগুড়ি আদালত চত্বর! চীন থেকে নেপাল সীমান্ত হয়ে বেআইনিভাবে খড়িবাড়িতে ঘাঁটি গেড়ে চিনন্ডিয়া নামে গোটা দেশের নেটওয়ার্ক তৈরি করে চীনের নাগরিক ইয়ংচিং পঙ। এই নেটওয়ার্কিংয়ের আড়ালে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জাল বিস্তার করে কাঠ পাচার থেকে ভারতের চন্দন কাঠ নেপাল হয়ে চিনে পাচারের চক্র সক্রিয় করে তোলে। আবার চীন থেকে নিষিদ্ধ সামগ্রী এ দেশে পাচারের কাজেও যুক্ত অভিযুক্ত বলেই পুলিশ ও আদালতে সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে বছর খড়িবাড়ি ভারত নেপাল সীমান্ত থেকে অভিযুক্ত কে আটক করে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে এসএসবি। এরপরই খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত চীনা নাগরিক যুবকের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে নেপাল সীমান্ত হয়ে এ দেশে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি ফরজারির মামলা দায়ের হয়। জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্ত হয়ে কোনরকম বৈধ নথিপত্র ছাড়াই অনুপ্রবেশ করে চীনের নাগরিক যুবক। শুধুমাত্র তাই নয় বেআইনিভাবে এদেশে ডেরা গেড়ে কাঠ পাচারের। নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে তোলে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও এদেশ থেকে মূল্যবান চন্দন কাঠ চীনের পাচারের মতো চক্রের সঙ্গে যোগের অভিযোগ রয়েছে। দিল্লি উত্তরপ্রদেশ বিভিন্ন রাজ্যে এই চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ। আর সে সূত্র ধরেই দিল্লির বাসিন্দা যুবতী প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ দৃঢ় হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে টানা তিন বছর জেল হেফাজতে রয়েছে সে। তিন বছর ধরে ভিন দেশে জেল হেফাজতে থেকে যুবকের যাবতীয় আইনি মামলার ব্যয়ভার থেকে যোগাযোগ সবটাই দিল্লির প্রেমিকা যুবতীর তৎপরতায় চলছে। শুক্রবার শিলিগুড়ি আদালতের অ্যাসিটেন্ট সেশন জর্জ কোর্টে মামলার শুনানির প্রায় অন্তিম দিন। আদালতে চলছিল সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব।

সে সময়তেই যুবক প্যানিক এট্যাক আক্রান্ত হন। প্রেমিকার কোলে মাথা রেখে ভরা আদালতে অচৈতন্য হয়ে পড়ে যুবক। তড়িঘড়ি আদালতের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা ছুটে যায়। আইনজীবী ও অন্যান্য বিচারপ্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিড় জমায়েত হয়ে ওঠে আদালত জুড়ে। এরপরই অ্যাম্বুলেন্স-এ অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। সেখানে এমার্জেন্সি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মেল মেডিসিন ওয়ার্ডের স্থানান্তরিত করা হয়। এইসবের মাঝে জোড় চর্চা! সাময়িক অন্যান্য কোড কক্ষে চলা মামলাতেও বিরতি পরে। এই বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষের আইনজীবী অভয় চ্যাটার্জি জানান- তিন বছর ধরে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ এবং ফরজারির মামলায় শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে রয়েছে অভিযুক্ত।

এদিন সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্ব চলছিল। আদালত এসিস্ট্যান্ট সেশন জর্জ কোর্টের বিচারপতি আগামী ১১ ই জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহন জন্য দিন ঘোষণা করেন। আর এরপরই আচমকা প্যানিক অ্যাটাক আক্রান্ত হয় যুবক। তিনি বলেন এই মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন তিন বছর জেল হেফাজত হতে পারে। মামলার শেষ পর্বে এসে সে কারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের তরফে জানা গিয়েছে প্যানিক অ্যাটাক হয় যুবকের। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

Share Messenger Whatsapp Post